সচেতনা

Thursday, February 11, 2010

বলতে চাই

লক্ষ কথার আগেই ঝরে গেল
সহস্র বকুল। মাথা তোল,
আমাকে নামিয়ে দাও।

পাপ-ভার মুক্ত
মূলতঃই অপার ঝোঁক
শেষ হোক অমল সঙ্গমে।

দুরন্ত একদল ঘোড়া ছুটে চলে
অস্তিত্ব খননে, আবীর সূর্যোদয়
কোষে কোষে ছড়াতে চায়
দাবানল, ধর্ষিত আত্মা সূর্যস্নাত হয়ে
জেগে ওঠে আরও একবার।

আজ সেইদিন। পরম মমতায়
ছিন্ন-ভিন্ন বকুল মুঠোয় তুলে ধরে
ক্ষীণ-গন্ধীর তবকে জড়ায়
আলোকিত অলোক-বয়ান।
উচ্চকোটির সন্তান, আমি
তোমাকে বলছি, দুঃস্থ-আকীর্ণ
ওই বাবলা কাঁটার পথ সে
কারোর একার নয়।

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার ভাঙা তরবারী
গচ্ছিত আছে অপদস্থ দেরাজে,
বিভূতির পুঁটুলি এক কোনায়।
আশ্চর্য মহিমায় এদের
শৈশব পালটে পালটে যায়।
ভুল কুঠুরীতে ভুল-শৈশব
অভ্যস্ত ঢুকে যায়। ভুলের ভুল
শোধরায় না আর।

নিরালা অরণ্যে তাই ছড়িয়ে দিতে চাই
আগুনের ফুলকি। খাক হয়ে যাক
আমার সমস্ত বংশধর। মুছে যাক
বকুল-গন্ধী সমস্ত বয়ান।
রোদ-বিহীন সকালে
আমি চৈতন্য-পুত্রী,
উপল খন্ডে পা তুলেছি,
ভরষা রাখছি আমারই প্রশস্ত পদক্ষেপে
কমলা রঙ শরীরে জড়িয়ে নেওয়ার অসীম বিশ্বাসে।

পান করেছি সমস্ত ছলাকলা,
বন্ধক রেখেছি জরী-মেখলার জারিজুরী
খুঁটে নিচ্ছি দুহাত ভরে নবান্ন ধান
পেছনে উথাল পাতাল চৌপট দিন
সামনে টিনের চালায় বৃষ্টি
ঝরছে হলুদপাতায় শুভকামনা,
মরাই ভরে উঠছে খোলা দুয়ারের পাশে।

মা বলেছিল

বাবাকে বলেছিলাম, মা রাস্তার ধারের
কানা গলি পেরোতে চায়
বাবা বলেছিল, অসম্ভব ভাবনা।
ভাইকে বলেছিলাম, মা ছবি আঁকতে চায়
ভাই বলেছিল, অবাস্তব কল্পনা।
বোনকে বলেছিলাম, মা রাস্তার কলে একবার পা ধূতে চায়
বোন বলেছিল, অহেতুক সময় নষ্ট।

কানা গলি পেরোলেই যে সুর ভেসে আসে
সেই সুরের লোভে আমিই কানা গলিতে পা রাখতে চেয়েছিলাম।
ছবির আদলের সাথে সূর্যের সাত রঙের মিশেলে যে ভাব তৈরী হয়,
সেই ভাব মুঠোয় পেতে আমিই জেগে থাকতাম দিনভর
রাস্তার জলের উষ্ণতায় ডুবে যেতে
মোহাবিষ্টের মত আমিই হেঁটে যেতাম বারবার।

বলবো ভেবেছি বহুবার,
আমার সুরের প্রতি ভালবাসাকে ভালবেসে
মা আমাকে কানা গলির মুখে ছেড়ে দিয়েছিল বেশ কয়েকবার
সম্ভাবনাময় রাস্তা খোঁজার সৌম্য ভাবনায়।
বলা হয়নি,
আমার রঙের প্রতি আবেগকে প্রতিষ্ঠা দিতে
মায়ের হাত ধরেই দেখেছিলাম প্রথম সূর্যের রঙ সাতটি ঘোড়ার
পিঠে সওয়ারী হয়ে ছুটে চলেছে কালিন্দীর ধোঁয়া ওঠা স্বচ্ছ তোয়ায়।
কেমন করে বলি,
বহুবার আমি রাস্তার উষ্ণ জলে পা ডুবিয়ে চমকে থমকে গেলে
মা আমাকে বাহুমূলের দৃঢ় বাঁধনে সরিয়ে নিয়ে মুচকি হেসে
বলেছে, বৃথা কেন থমকানো তুই না আমার বুঝদার মেয়ে!